ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ স্থায়ীভাবে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ এবং কুতুবদিয়ায় সুপার ডাইক নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ কক্সবাজার, আজ ২৩ সেপ্টেম্বর
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জনাব ফরহাদ হোসেন আজাদ আজ (বুধবার) কক্সবাজার জেলার পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধসমূহ স্থায়ীভাবে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ এবং কুতুবদিয়ায় প্রয়োজনীয় স্থানে সুপার ডাইক নির্মাণের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
আজ সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রতিমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা এলাকায় বন্যায় ধসে যাওয়া বাঁধ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং বাঁধটি স্থায়ীভাবে মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে প্রতিমন্ত্রী কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী রোমাইপাড়া এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জরুরি ভিত্তিতে বাঁধটির স্থায়ী সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সুপার ডাইক নির্মাণের লক্ষ্যে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরবর্তীতে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে প্রতিমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের শরৎঘোনা ও সোনালী বাজার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধসমূহের স্থায়ী সংস্কার ও পুনর্নির্মাণে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জনাব ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “উপকূলীয় এলাকার মানুষের জানমাল, বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও জীবিকা রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধসমূহের স্থায়ী সংস্কার ও পুনর্নির্মাণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু সাময়িক মেরামত নয়, বরং ভবিষ্যতে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাঁধগুলোকে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী করতে হবে। কুতুবদিয়ার মতো উপকূলীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী সুপার ডাইক নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবো আমরা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে প্রকৃত অবস্থা পর্যালোচনা করে কারিগরি দিক বিবেচনা করে ইতোমধ্যে ৯৩২ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, যেখানে ৬.৫ কিলোমিটার প্রতিরক্ষা কাজসহ বেড়িবাঁধ নির্মান করা হবে। এ বিষয়ে অচিরেই প্রকল্পটি একনেক এ উপস্থাপন করা হবে এবং আশা করা যাচ্ছে ডিসেম্বরের মধ্যেই আমরা কাজ শুরু করতে পারবো।”
প্রতিমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধসমূহের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য জনাব আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মোঃ রুহুল আমিন, এবং কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক জনাব এ. টি. এম. নুরুল বশর চৌধুরীসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
