এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫১২ জন। এর মধ্যে খুলনা বিভাগে নতুন করে ৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৫২ জনই বাগেরহাট জেলার।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে দুজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জুলাই মাসের প্রথম ২৮ দিনেই মারা গেছেন ২৯ জন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খুলনা বিভাগের নতুন ভর্তি হওয়া ৮৫ জন রোগীর মধ্যে বাগেরহাটে ৫২ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ১৭ জন, খুলনা জেলা হাসপাতালে ১৩ জন, মেহেরপুরে ২ জন এবং কুষ্টিয়ায় ১ জন ভর্তি হয়েছেন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ১ হাজার ৯২৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৭১২ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বিভাগে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ জনে।
বর্তমানে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ১৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে খুলনার হাসপাতালগুলোতে সর্বোচ্চ ৮৬ জন ভর্তি রয়েছেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৩ জন এবং খুলনা জেলা হাসপাতালে ৩৩ জন চিকিৎসাধীন। এছাড়া বাগেরহাটে ৫৫ জন, যশোরে ২৬ জন, মাগুরায় ৪ জন, মেহেরপুরে ৫ জন, সাতক্ষীরায় ৩ জন, কুষ্টিয়ায় ২ জন এবং ঝিনাইদহ ও নড়াইলে একজন করে রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ডেঙ্গুর জটিলতার কারণে এ বছর বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ২৪ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭৬ জন এবং ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলায় ৪০ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ঢাকার বাইরে অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৫ জন করে, রাজশাহীতে ৩৪ জন, রংপুরে ২৮ জন, ময়মনসিংহে ১৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫৩২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট ১৪ হাজার ১৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা রাতে মশারি ব্যবহার এবং ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে মঙ্গলবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে ‘ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি ও হালনাগাদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ সরবরাহ এবং মশক নিধন কার্যক্রম ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রতিদিন দুই দফায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং হাসপাতালের ওপর চাপ কমানোই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও জানান, বুধবার (২৯ জুলাই) থেকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় আরও বিস্তৃত ও জোরালো কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন খুলনা শাখার আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. পরিতোষ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. গোলাম মাসুদ, হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আমানুল ইসলাম এবং উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ।
স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন খুলনা শাখার সদস্য সচিব ও সহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন।
ডেঙ্গুবিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. মো. নজরুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল কবির এবং ডা. মোহাম্মদ কবীর উল ইসলাম।
