রোকনুজ্জামান সবুজ,জামালপুরঃ জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় চরপুটিমারি ইউনিয়নের বেনুয়ারচর আব্দুল মালেক মণ্ডল এতিমখানা’র মেয়াদোত্তীর্ণ পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্যকে (এমপি) বিভ্রান্তিতে ফেলে স্বাক্ষর নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের দোসরদের পক্ষ নিয়ে ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে।
অপরদিকে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় উল্টো যুবদল নেতাদের নামে মিথ্যা অপপ্রচার ও হেনস্তার অভিযোগ তুলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়,উক্ত এতিমখানার মেয়াদোত্তীর্ণ পরিচালনা কমিটির অনুমোদনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা চলছিল। অভিযোগ রয়েছে,স্থানীয় সংসদ সদস্য ভুলবশত প্রথমে একটি তালিকায় স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে ওই তালিকায় ফ্যাসিবাদের দোসর ও চিহ্নিত আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সুরুজ মাস্টার নাম থাকার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি সঙ্গে সঙ্গে তা সংশোধন করেন এবং একটি সৎ ও গ্রহণযোগ্য নতুন কমিটির বিলে পুনরায় স্বাক্ষর/সুপারিশ প্রদান করেন।
অভিযোগ উঠেছে, এমপির দ্বিতীয় চূড়ান্ত নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সমাজসেবা কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আব্দুল লতিফ ২০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রথম কমিটিটিই বহাল রাখার অপচেষ্টা ও পাঁয়তারা শুরু করেন। ঘুষের টাকা আড়াল করতে এবং এমপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে তিনি একই এতিমখানার দুই কমিটির ফাইল জেলা কার্যালয়ে পাঠিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছেন।
গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে চরপুটিমারী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজু বলেন, “লতিফ অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে বিতর্কিতদের নিয়ে কমিটি অনুমোদনের চেষ্টা করছিলেন। আমরা বিষয়টির প্রতিবাদ জানিয়ে কথা বলতে গেলে সামান্য বাকবিতণ্ডা হয়। তবে মারধর বা সরকারি কর্মচারীকে হেনস্তার যে কথা ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, প্রলোভনমূলক ও ভিত্তিহীন।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিন বলেন, “এমপি মহোদয় না জেনে প্রথম কমিটিতে স্বাক্ষর করেছিলেন, পরে সত্যতা জানতে পেরে সেটি সংশোধন করে দ্বিতীয় কমিটিতে সুপারিশ করেন। কিন্তু সরকারি কর্মচারী আব্দুল লতিফ ঘুষ বাণিজ্য বহাল রাখতে এমপি মহোদয়ের মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করার গভীর ষড়যন্ত্র করছেন এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমাদের ওপর মিথ্যা দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন। আমি মারধরের সাথে যুক্ত ছিলাম না, বরং পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে উচ্চমান সহকারী আব্দুল লতিফ দাবি করেন, দুটি ফাইলেই এমপির সুপারিশ থাকায় জটিলতা এড়াতে ফাইল জেলায় পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে সমাজসেবা কার্যালয়ে উচ্চমান সহকারী আব্দুল লতিফ বলেন,আমি কারো কাছে ঘুষ নেইনি,বরং অফিসের নির্দেশে সমঝোতা জন্য জামালপুর সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠিয়েছি দুইটি ফাইল। ঘুষের টাকা কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এ বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো.জুবায়ের বলেন,প্রশাসনিক ভবনের ওই ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
