ঢাকাMonday , 24 August 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. খেলাধুল
  4. জাতীয়
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. রাজনীতি
  8. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মেলান্দহে বিয়ের আনন্দে বিষাদ: কনেপক্ষে প্রতারণা ও বরপক্ষের চাঁদাবাজির দাবি

Mahamudul Hasan Babu
August 24, 2026 2:22 pm
Link Copied!

​রোকনুজ্জামান সবুজ,জামালপুরঃজামালপুরের মেলান্দহে কনের বাড়িতে হঠাৎ বরপক্ষের সাবেক স্ত্রী হাজির হওয়াকে কেন্দ্র করে একটি বিয়ে ভেস্তে গেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে কনে ও বরপক্ষের মধ্যে তৈরি হয়েছে মারাত্মক উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি মারাত্মক অভিযোগ।

​কনের পরিবারের দাবি, আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে পুনরায় বিয়ে করতে আসায় তারা চরম প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে বরপক্ষের অভিযোগ, বিয়ে পণ্ড হওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের আটকে রেখে জোরপূর্বক ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায় করেছেন।

​গত ১০ আগস্ট রাতে মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের জাফরশাহী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার নান্ডু মিয়ার মেয়ের সঙ্গে ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের চতলা পাড়া এলাকার তকদের আলী মেম্বারের ছেলে শাকিল মিয়ার বিয়ের দিন-তারিখ নির্ধারিত ছিল। নির্ধারিত দিনে ধুমধাম করে বরযাত্রী নিয়ে শাকিল কনের বাড়িতে যান। তবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর ঠিক আগেই ঘটে বিপত্তি।

​স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, বিয়ে চলাকালীন শাকিলের প্রথম স্ত্রী হাজির হলে পরিস্থিতি মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে কনেপক্ষ বিয়ে ভেঙে দেয়। গরু জবাইসহ ঘটা করে আয়োজন করা উৎসবের পরিবেশ নিমেষেই বিষাদে রূপ নেয়।

​কনের বাবা নান্ডু মিয়া বলেন, “বরপক্ষ আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। শাকিল পূর্বে বিবাহিত ছিল এবং সেই তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রেখে আমার মেয়েকে বিয়ে করতে এসেছিল। তার স্ত্রী এসে সত্য প্রকাশ করায় আমরা বিয়ে বন্ধ করেছি।” তিনি আরও জানান, বিয়ের আয়োজনে তার বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং তিনি বরপক্ষকে নগদ ৪ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। পরে বরপক্ষকে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হলেও এখনও ২০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। প্রতারণা করে উল্টো মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

​তবে প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে শাকিলের বড় ভাই শাহআলম মেম্বার বলেন, “মেয়ের পরিবার আগের সব বিষয় জেনেশুনেই বিয়ের তারিখ ঠিক করেছিল। আমরা বরযাত্রী নিয়ে গেলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা ঝগড়া শুরু করে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বরযাত্রীদের সঙ্গে উগ্র আচরণ করে তাদের আটকে রাখেন এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা দাবি করে আদায় করেন। তিনি দাবি করেন, তার ভাইয়ের প্রথম স্ত্রীকে অনেক আগেই আইনি প্রক্রিয়ায় তালাক দেওয়া হয়েছে, তাই গোপন করার প্রশ্নই ওঠে না। এই চাঁদাবাজি ও হয়রানির বিরুদ্ধে তারা ইতোমধ্যে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

​ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাহবুবর রহমান বলেন, “ঘটনাস্থলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে আমি ও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেখানে যাই এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।” তিনি আরও বলেন, বরপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং মামলায় জড়িয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এলাকার শান্তি প্রতিষ্ঠায় সামাজিক মধ্যস্থতাকারীদের এভাবে হয়রানি করা হলে ভবিষ্যতে কেউ সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে এগিয়ে আসতে সাহস পাবে না।

​জানা গেছে, শাকিল মিয়ার প্রথম বিয়ে হয়েছিল ইসলামপুর উপজেলার পেচারচর গ্রামের আনিতা আক্তারের সঙ্গে। বরপক্ষ বিচ্ছেদের দাবি করলেও আনিতা আক্তারের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

​বর্তমানে পুরো এলাকা জুড়ে এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে বিয়ের নামে প্রতারণা, অন্যদিকে সালিশের নামে টাকা আদায় ও রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা নিয়ে চলছে নানা বিচার-বিশ্লেষণ। উভয় পক্ষই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছে।