মনোজ মালাকার কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পুরস্কারের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাবেক ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বাকী বিল্লাহর বিরুদ্ধে। অনুষ্ঠান শেষের সাত মাসেও পুরস্কার ও সনদ পাননি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমলোচনা হতেই তড়িঘড়ি করে গত ২৫ আগষ্ট কিছু পুরস্কার ক্রয় করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এ বছরও জানুয়ারি মাসে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পর্যায়ে ২৫টি ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে ক্রীড়া ও বিভিন্ন বিষয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হলেও দীর্ঘ সাত মাসেও তাঁদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেওয়া হয়নি, যে কারণে শিক্ষার্থীদের মাঝে চাপাক্ষোপ বিরাজ করছে। এদিকে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতাও ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব পর্যায়ে অংশ নেওয়া অনেক বিজয়ী শিক্ষার্থী পুরস্কার পেয়েছেন। ফলে কোটচাঁদপুরের বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণে এত বিলম্ব কেন—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুরস্কার বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগও উঠেছে।
তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাকী বিল্লাহর দাবি, বরাদ্দ পেতে বিলম্ব হওয়ায় পুরস্কার দেওয়া সম্ভব হয়নি। তার এ বক্তব্যর সাথে বাস্তবের কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি, তথ্য নিয়ে জানা গেছে গত ১লা এপ্রিল তিনি পুরস্কার ক্রয়ের ৭৫ হাজার ৫শত টাকা বিল ভাউচার দেখিয়ে আত্মসাতের চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে বর্তমান মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নেছার উদ্দিন আহম্মেদ জানান বাকীঁ বিল্লাহ মূলত শৈলকুপা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হিসাবে কর্মরত আছেন এখানে শিক্ষা অফিসার অশোক কুমার এর অবসরজনিত বিদায়ের পর পদটি শুন্য হয়ে যায়, তিনি ভারপ্রাপ্ত হিসাবে গত ০১ ফ্রেরুয়ারী থেকে চলতি মাসের ৮ তারিখ পর্যন্ত দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। আমি মাত্র যোগদান করেছি আগে কি হয়েছে জানিনা তবে গত পরশু পুরস্কার সামগ্রী অফিসে আনা হয়েছে যা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ-৩ আসনের এনসিপি নেতা হৃদয় আহম্মেদ দাবি করেন, উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের প্রতিযোগিতা জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হলেও এখনো বিজয়ীদের পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হয়নি। যে কারণে তিনি বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পক্ষে প্রতিবাদ করেছেন।
কোটচাঁদপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান বলেন, ‘পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের। নতুন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) পদায়ন হয়েছেন। এখন দ্রুত পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি ভাবা উচিত। এর আগে এত দেরি হয়েছে বলে মনে হয় না।
অভিযুক্ত সাবেক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাকী বিল্লাহ বলেন বরাদ্দ ছিল না। বরাদ্দ পেতে বিলম্ব হয়েছে। এ কারণে পুরস্কার দেওয়া হয়নি। খুব দ্রুত বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে পুরস্কারের অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসাইন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবো কি হয়েছে।
