মোঃ জাহেরুল ইসলাম আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান| অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য থাকায় একদিকে প্রশাসনিক দায়িত্বের অতিরিক্ত চাপ পড়ছে শিক্ষকদের ওপর, অন্যদিকে সহকারি শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে| শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে| এতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রয়োজনীয় মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা| এর প্রভাব পড়ছে পাঠদানের মান ও শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফলেও|
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মাসুদ হাসান জানান, আটোয়ারীতে মোট ১১২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৬ টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে| এই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বর্তমানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে| প্রধান শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; তিনি বিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন| প্রতিদিনের কার্যক্রম তদারকি,শিক্ষকদের কাজের সমš^য়, বিভিন্ন নথিপত্র সংরক্ষণ, আর্থিক ও প্রশাসনিক বিষয় পরিচালনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সরকারি দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ- সবই তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে| কিন্তু প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন শুন্য থাকলে এসব দায়িত্ব কোনও একজন সহকারী শিক্ষককে পালন করতে হয়, অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষেও পাঠদান করতে হয়| দু’টি দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে গিয়ে ¯^াভাবিকভাবেই পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও মনোযোগ কমে যায়| এতে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে| তিনি বলেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ- পদোন্নতির আইনি জটিলতা কাটার পর পরিস্থিতি উন্নতির আশা করা হলেও, নতুন শিক্ষকরা মাঠ পর্যায়ে যোগ না দেওয়া পর্যন্ত সংকট পুরোপুরি কাটছে না| উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে আটোয়ারী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১২ টি| অনুমোদিত ৬৬৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ১২৪ জন শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে| ১১২ জন প্রধান শিক্ষকের মধ্যে ৬৬ জন প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন| এরমধ্যে চলতি দায়িত্বে আছেন ২৬ জন| আটোয়ারী উপজেলায় ৪৬ জন প্রধান শিক্ষকের পদ এবং ৭৮ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে| সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার কাঙ্খিত দক্ষতা অর্জনে ব্যাহত হচ্ছে| শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত্তি ˆতরী করে| এই স্তরে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা না গেলে শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদানই নয়, দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা ও দেশের সামগ্রিক শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে|
