ঢাকাSaturday , 29 August 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. খেলাধুল
  4. জাতীয়
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. রাজনীতি
  8. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাংনী হাসপাতালে ডাক্তারদের  বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় ওষুধের প্রেসক্রিপশন দেওয়ার অভিযোগ

Mahamudul Hasan Babu
August 29, 2026 5:08 pm
Link Copied!

আমিরুল ইসলাম অল্ডাম মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের (এমআর) দেওয়া বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে রোগীদের অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল ওষুধের প্রেসক্রিপশন  দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে বাড়তি চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত রোগীরা।

‎ভুক্তভোগী সাধারণ রোগীরা  জানান,শুধুমাত্র  সর্দি-কাশি বা সামান্য অসুস্থতা নিয়েও অনেক রোগীকে একাধিক ওষুধ লিখে দেওয়া হচ্ছে।

‎অথচ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি বরাদ্দে থাকা কিছু ওষুধ প্রেসক্রিপশনে না থাকায় সেগুলো রোগীদের কাজে আসছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

‎রোগীরা আরও অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলেও অনেক সময় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের সঙ্গে চিকিৎসকদের সাক্ষাৎ ও ওষুধ নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

‎সম্প্রতি কয়েকজন জুনিয়র চিকিৎসক যোগদানের পর অপ্রয়োজনীয় ওষুধের প্রেসক্রিপশন দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন রোগী। এ ঘটনায় হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাসুদুর রহমানের সঙ্গে চুক্তির অভিযোগও করেছেন তারা। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

‎এদিকে সরকারি বরাদ্দের ওষুধ রোগীদের না দিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর তা ফেলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি হাসপাতালের স্টোরে থাকা ওষুধ ভুয়া বা অতিরঞ্জিত চাহিদাপত্রের মাধ্যমে উত্তোলন করে বাইরে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্টোরকিপার ও আরএমওর সম্পৃক্ততার কথা গোপন সূত্রে জানা গেছে।

‎অন্যদিকে, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে শয্যা ও জনবল সংকট। ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় অনেককে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। জরুরি বিভাগেও রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের।

‎হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ রোগীদের। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর সুবিধা না থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ  বেড়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎অপ্রয়োজনীয় ওষুধের প্রেসক্রিপশন দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মাসুদুর রহমান বলেন, “প্রেসক্রিপশনের অধিকাংশ ওষুধ আমাদের এখানে রয়েছে। কী কারণে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ লেখা হয়েছে, তা খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

‎এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. ইকরামুল হকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বললেন, জ্বালানি না থাকায় জেনারেটর সেবা বন্ধ রয়েছে,সরকারিভাবে বরাদ্দ আসলে চালু করা হবে।অন্য বিষয়ে কোন  বক্তব্য দিতে রাজি নন তিনি।

‎অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা।