গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি । গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা ইউনিয়নের চর গোবরা গ্রামের গিরিশ নগর এলাকার মধুমতি নদী থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য খোকা শিকদার কে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে তার মৃত্যু হয়। এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায় কতিপয় দুর্বৃত্ত খোকা শিকদারকে (৬০) অপহরণ করে নেশা জাতীয় কিছু একটা খাইয়ে মধুমতি নদীতে ফেলে দেয়। খোকা শিকদার (৬০) নদীতে সাঁতরে জীবন রক্ষার চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা পাননি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনার একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় ও এলাকাবাসীর সূত্রে আরও জানা যায়, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৭টার দিকে চর গোবরা এলাকার বাসিন্দা খোকা শিকদারকে কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক ধরে নিয়ে মধুমতি নদীতে ফেলে দেয়। নদীর পানিতে ফেলার আগে তাকে নেশা জাতীয় কিছু খাওয়ানো বা পান করানো হয়েছিল বলে মৃত্যুর পূর্বে দেওয়া এক জবানবন্দিতে দাবি করেন তিনি। নদীতে ফেলে দেওয়ার পর জীবনের তাগিদে তিনি দীর্ঘ সময় সাঁতার কেটে শেষ পর্যন্ত গিরিশ নগর এলাকায় মধুমতি নদীর তীরে উঠতে সক্ষম হন। সেখানে স্থানীয় লোকজন তাঁকে অত্যন্ত অসুস্থ ও দুর্বল অবস্থায় উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর প্রথমে তাঁকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় দ্রুত খুলনার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে মধুমতি নদীর তীরে বসে খোকা শিকদারের দেওয়া একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমগ্র এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভিডিওটিতে তিনি ঘটনাটি বর্ণনা করেন। স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি কোনো নিছক দুর্ঘটনা নয়; বরং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনো অস্পষ্ট।
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না এবং পুলিশ এখন পর্যন্ত কী আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
