রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুরঃ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও কাটেনি অবহেলা। জামালপুরের বকশীগঞ্জে খড়স্রোতা দশানী নদী আর মেঠো পথের কাঁদা জল ঠেলে পার হতে হয় হাজারো মানুষকে। ভোগান্তির এই রুটিন থেকে মুক্তি পেতে অবশেষে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষা বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা।
বকশীগঞ্জের মদনেরচর তালতলা গুদারা ঘাটে একটি টেকসই ব্রিজ ও তিন কিলোমিটার পাকা রাস্তার জোর দাবিতে রাজপথে নেমেছেন তারা।
মঙ্গলবার (১৫সেপ্টেম্বর) সকালে মদনেরচর তালতলা সর্বস্তরের এলাকাবাসী’র ব্যানারে নদীর তীরে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে অন্তত ৬টি গ্রামের পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। হাতে হাত রেখে ও স্লোগানে স্লোগানে তারা দ্রুত দশানী নদীর ওপর সেতু ও কাঁচা রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, বকশীগঞ্জের সাধুরপাড়া ইউনিয়নের জিন্নাহ মোড় থেকে তালতলা গুদারা ঘাট পর্যন্ত একমাত্র ভরসা একটি কাঠের নৌকা। নদীর ওপর সেতু না থাকা এবং গ্রামীণ পথটি কাঁচা থাকায় মদনেরচর,খাপড়াপাড়া,জোনাইবাড়ি,চর কামালের বার্ত্তী ও নশুর চরসহ আশপাশের গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। যোগাযোগের আধুনিক ছোঁয়া না থাকায় উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা; মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে পড়তে হয় চরম বিপাকে।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন,তালতলা থেকে মাদারেরচর বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকা হলে ও দশানী নদীতে সেতু তৈরি হলে পুরো এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক চিত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে। খুলে যাবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক অধিকারের দুয়ার।
সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও আশু পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
মানববন্ধনে এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন আমিনুল ইসলাম,শিক্ষক ওমর ফারুক,মনির হোসেন ও স্থানীয় কৃষক আহাজ্জল মিয়াসহ আরও অনেকে।
