মোঃ জাহেরুল ইসলাম আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স| ৪০টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৫জন| চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকসহ সেবাপ্রার্থীরা| দ্রুত এসব সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা| সরেজমিনে দেখা যায়, টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে রোগীদের ভিড়| বহির্বিভাগে চিকিৎসকদের সামনে দীর্ঘ সারি| প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন| জরুরী বিভাগেও প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ জন রোগী সেবা নেন| ৫০ শয্যার হাসপাতালে ১০৪ জন পর্যন্ত রোগী ভর্তি থাকতে দেখা গেছে| অতিরিক্ত রোগীদের অনেককে বারান্দার মেঝেতে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে| তবে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে| হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন সহ আধুনিকমানের প্যাথলোজিক্যাল ল্যাব রয়েছে| জরুরী এক্স-রেসহ অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাসপাতালে করা যাচ্ছে| তবে টেকনেশিয়ান পর্যাপ্ত না থাকায় ল্যাবের একজন টেকনেশিয়ানকে অনেক সময় হিমসিম খেতে হচ্ছে| হাসপাতলে আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ অপারেশন থিয়েটার থাকলেও বর্তমানে তা বন্ধ| ২০২১ সালের শেষের দিকে সিজারিয়ান কার্যক্রম চালু হয়| ২০২৪ সালের শুরুতেই বন্ধ হয়ে যায়| এই দুই বছরে আটোয়ারী হাসপাতালে শতাধিক সিজারিয়ানসহ ২৫৫ টি সার্জিক্যাল অপারেশন করা হয়েছে| বন্ধের কারণ হিসেবে জানা গেছে, হাসপাতালে সার্জিক্যাল ডাক্তার ও অ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তার না থাকায় অপরেশন থিয়েটার বন্ধ রাখা হয়েছে| নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক রোগী বলেন,আমি রংপুর ও ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম, হাসপাতালের ভিতরে অপরিস্কারের কারণে অনেক দুর্গন্ধ| আটোয়ারী হাসপাতালটি প্রাইভেট ক্লিনিকের মতো পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন এবং দুগন্ধমুক্ত| স্থানীয় সচেতন মহল বলেন, সিজারিয়ানসহ সকল অপারেশন চালু থাকলে, এলাকার গরীব অসহায় পরিবারগুলোর সময় ও অর্থ দুটোই বেঁচে যাবে| অপারেশন থিয়েটার বন্ধ থাকায় সিজারসহ অন্যান্য অপারেশনগুলো ঠাকুরগাঁও,রংপুর¦ বা বাহিরের কোন বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হবে| এতে বাড়তি অর্থ ও সময় ব্যয় হবে| আরো হয়রানিতো হতেই হবে| উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.: মোঃ হুমায়ুন কবীর জানান, আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির তীব্র জনবল সংকট রয়েছে| ¯^ল্প জনবল নিয়ে আমরা আমাদের সাধ্যমত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি| চিকিৎসকসহ অন্যান্য জনবল সংকটের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে| তারা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন| আশা করি পর্যাপ্ত জনবল পেলে অপরেশন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা যাবে এবং সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে|
