ঢাকাSunday , 25 October 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. খেলাধুল
  4. জাতীয়
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. রাজনীতি
  8. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বদলির পরও কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ, সেবা না পেয়ে ফিরছেন ভূমিসেবাপ্রার্থীরা আত্রাই থেকে মান্দায় বদলি হওয়া সহকারী তহশিলদারের বিরুদ্ধে আবারও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

Mahamudul Hasan Babu
October 25, 2026 4:57 pm
Link Copied!

সবুজ হোসেন, নওগাঁ:নওগাঁর আত্রাইয়ে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে আলোচনায় আসা সহকারী তহশিলদার মোস্তাফিজুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে মান্দা উপজেলার নুরুল্ল্যাবাদ-কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। তবে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পরও তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সরেজমিনে ওই ভূমি অফিসে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। এতে বিভিন্ন ধরনের ভূমিসেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাগ্রহীতারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ অক্টোবর নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জান্নাত আরা তিথির স্বাক্ষরে মোস্তাফিজুর রহমানকে আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ-শাহাগোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ-কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করা হয়। আদেশ অনুযায়ী, তাঁকে ১৯ অক্টোবরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেন।
তবে রোববার (২৫ অক্টোবর) সরেজমিনে নুরুল্লাবাদ-কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে তাঁকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অফিসের একজন প্রসেস সার্ভার জানান, মোস্তাফিজুর রহমান সকালে অফিসে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ব্যক্তিগত কাজে বাইরে চলে গেছেন। তবে তিনি কোথায় গেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি ওই কর্মচারী।
এদিকে, সহকারী তহশিলদারের অফিসে এসে হাজিরা দিয়ে চলে যাওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র তহশিলদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওই দিন মোস্তাফিজুর রহমান অফিসে থাকবেন না বা বাইরে যাবেন এমন কোনো তথ্য তাঁকে জানানো হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ১০ কি: মি: দূরের কালিকাপুর এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা এক বৃদ্ধ সেবা না পেয়ে ভূমি অফিস থেকে ফিরে চলে যান। শুধু তাই নয় ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে এসে অনেক সেবাগ্রহীতা প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে অফিসে এসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে না পেয়ে তাঁদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এ বিষয়ে দুই থেকে তিনজন সেবাগ্রহীতার বক্তব্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।
সরকারি ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভূমি উন্নয়ন কর, জমির রেকর্ড ও অন্যান্য ভূমিসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে যেন অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
উল্লেখ্য, আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ-শাহাগোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং ভূমি অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের বিষয়ে একাধিক দফায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। জমির খাজনা পরিশোধ করতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ এনে আত্রাইয়ের বাসিন্দা মো. লুৎফর রহমান জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদনও করেন।
এ ছাড়া ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে আর্থিক সুবিধা ও নিয়মিত মাসিক অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার অভিযোগ করেন সাংবাদিক মো. সবুজ হোসেন। এ ঘটনায় তিনিও নওগাঁ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে এমন কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপটে মোস্তাফিজুর রহমানকে অন্য ভূমি অফিসে বদলি করা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিভাগীয় তদন্তের চূড়ান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এখন নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে আবারও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রোববার কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী তহশিলদার মোস্তাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একই বিষয়ে মান্দা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিল নওরোজ বৈশাখের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাঁর কার্যালয়ে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি ভূমি অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি, সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি এবং দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছে কি না তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তাঁদের মতে, শুধু বদলি করেই কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্তের পাশাপাশি নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন।
তবে ২৫ অক্টোবরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হাজিরা দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে বাইরে গিয়েছিলেন বলে অফিসের প্রসেস সার্ভার জানিয়েছেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছিলেন কি না, কিংবা ওই সময়ে তাঁর অনুপস্থিতি বিধিবহির্ভূত ছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।