রোকনুজ্জামান সবুজ,জামালপুরঃ চোখের সামনেই একে একে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে আজন্মের মাথা গোঁজার ঠাঁই, সোনালী ফসলের খেত আর গ্রামের একমাত্র চলাচলের মেঠোপথ। শেষ সম্বলটুকু বাঁচাতে কেউ নিজের হাতে লাগানো প্রিয় গাছটি কেটে ফেলছেন,কেউ বা চোখের পানিতে ভেজা মুখে ভেঙে নিচ্ছেন নিজের হাতে গড়ে তোলা বসতঘর।
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে এখন শুধুই হাহাকার আর চিৎকার।পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের নিষ্ঠুর থাবায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদী পাড়ের মানুষ। গত দুই-তিন দিনে তাসের ঘরের মতো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ও একর একর ফসলি জমি। ভাঙনের কবলে পড়ে ভেঙে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের একটি অংশ। যেকোনো মুহূর্তে নদী তলিয়ে নিয়ে যেতে পারে স্থানীয় স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ পাকা স্থাপনা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্প্রতি ভাঙন কবলিত এলাকার ভাটির অংশে ১২০ মিটার এলাকাজুড়ে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করলেও উজানের মূল ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি অলক্ষিত থেকে যায়। ফলে সেই অরক্ষিত অংশেই নদীর তীব্র স্রোত আঘাত হানছে। এক বছর আগে দেওয়া কর্তৃপক্ষের আশ্বাস বাস্তবে রূপ না পাওয়ায় আজ এই করুণ পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে তাঁদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,নদীর পাড়জুড়ে যেন বিষাদের ক্ষতচিহ্ন। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার ভয়ে দিনরাত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন শতাধিক পরিবার। চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ পরিবর্তনের কারণে বিগত কয়েক বছরে শত শত পরিবার ভূমিহীন ও গৃহহীন হয়েছে।
এ বিষয়ে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা নকিবুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা অবগত এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অস্থায়ী বালুর বস্তা বা জিও ব্যাগে আর আশ্বস্ত হতে পারছেন না লক্ষ্মীপুরবাসী। তাঁদের আকুল দাবি—জরুরি ভিত্তিতে নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হোক, যেন আর কোনো পরিবারকে ব্রহ্মপুত্রের কাছে নিজেদের স্বপ্ন বিসর্জন দিতে না হয়।
