রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় মোজাফ্ফর হোসেনকে “ভুয়া কাজী” হিসেবে আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে কাশিমপুর ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কাজী মো. বেলাল হুসাইন। সোববার বেলা ১১টায় উপজেলা সদরের এছাহক টাওয়ারে এমএস রেস্টুরেন্টে এই সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন- মোজাফ্ফর হোসেন কাশিমপুর ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার না হয়েও ভূয়া ভলিউম ক্রয় করে অবৈধভাবে বিবাহ এবং তালাক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মোজাফ্ফরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার মিলছে না।
লিখিত বক্তব্যে কাজী বেলাল হুসাইন দাবি করে বলেন, অবৈধ কার্যক্রমের দায়ে গত ২০১১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মোজাফ্ফর হোসেনের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স বাতিল হয়। এরপর আমি গত ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয় কর্তৃক বিচার শাখা-৭ হইতে কাশিমপুর ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিস্ট্রির (কাজী) হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হই। পরে মোজাফ্ফর হোসেন হাইকোর্ট বিভাগে পরপর দুইবার রিট মামলা দায়ের করলেও গত ২০২১ সালের ২২ জুন হাইকোর্ট বিভাগের ২০নং কোর্টে বিচারপতি উক্ত মামলা দু’টি খারিজ করে দেন। এরপর ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করেন। পরে ২০২৪ সালের ১২ মে আফিলও খারিজ হয়ে যায়। এরপর মোজাফ্ফর হোসেনের লাইসেন্স বাতিল এবং তার যাবতীয় রেজিস্ট্রার ও নথিপত্র অফিসে জমা দেওয়ার জন্য আইনগত নির্দেশনা থাকলেও তিনি কোন নথিপত্র জমা দেন নাই।
তারপর থেকে ভূয়া ভলিউম ক্রয় করে অবৈধভাবে বিবাহ এবং তালাক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এমন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় আমার বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং আমাকে হত্যার হুমকি দেয়।
কাজী বেলাল হুসাইন আরও বলেন, মোজাফ্ফরের এমন অপকর্মের কারণে নির্ধারিত এলাকার জনসাধারণ বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত কাজে প্রতারণার শিকারসহ সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। মোজাফ্ফরের বিরুদ্ধে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু প্রতিকার না হওয়ায় তিনি বিবাহ ও তালাক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মোজাফ্ফরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে বেলালের সাথে উপস্থিত ছিলেন তার ছোট ভাই জালাল আহমেদ ও ছেলে ইমামুল মুত্তাকিন হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে বেলাল হুসাইনের করা অভিযোগগুলো মিথ্যা দাবি করে মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ২০১১ সাল থেকে এপর্যন্ত বেলাল হুসাইন যা করেছে এবং করছে সবই অবৈধ। বেলালের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে স্টে অর্ডারসহ সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগে আপিল চলমান রয়েছে।
