নাটোর প্রতিনিধি:যে মানুষটি সারাজীবন অন্যের কষ্টের কথা লিখেছেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, মানুষের অভাব-অনটনের খবর তুলে ধরেছেন সংবাদমাধ্যমে—আজ সেই মানুষটিই নিজে অসহায়। বিছানায় শুয়ে নীরবে লড়ছেন জীবন বাঁচানোর জন্য। পাশে স্বজনদের উৎকণ্ঠা, সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।
তিনি বৈশাখী টেলিভিশন ও মানবজমিনের নাটোর জেলা প্রতিনিধি ইসাহাক আলী।
হঠাৎ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে কিছুদিন আগে থমকে যায় তার স্বাভাবিক জীবন। শরীরের একপাশ অবশ হয়ে পড়ে। চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটতে থাকে পরিবার। চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেননি তিনি।
তারপরও থেমে থাকেননি ইসাহাক। শারীরিক অসুস্থতা নিয়েই আবার হাতে তুলে নিয়েছিলেন সাংবাদিকতার কলম। মানুষের কথা বলতে মাঠে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু নিয়তি যেন তাকে আরও কঠিন পরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়েছে।
সম্প্রতি চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার দুটি কিডনিই সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে। জীবন বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন।
নাটোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ শহীদুল হক সরকার বলেন, দেশে অথবা ভারতে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা তার পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিজের ভিটেমাটি বিক্রির চেষ্টাও করেছেন ইসাহাক। কিন্তু চিকিৎসার বিশাল ব্যয়ের তুলনায় সেই অর্থও যথেষ্ট নয়। শেষ পর্যন্ত অসুস্থ শরীর নিয়ে নিজ ঘরের বিছানায় শুয়ে আছেন তিনি। প্রতিটি দিন কাটছে অনিশ্চয়তায়।
সবচেয়ে কষ্টের দৃশ্য তার পরিবারের জন্য। অসুস্থ স্বামীর দিকে তাকিয়ে থাকা স্ত্রী, বাবার দিকে তাকিয়ে থাকা ছোট ছোট সন্তান—কীভাবে প্রিয় মানুষটিকে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করে দেওয়া যাবে, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
একসময় ইসাহাকের হাতে ছিল কলম। সেই কলমে উঠে আসত মানুষের দুঃখ, অসহায়ত্ব আর বেঁচে থাকার সংগ্রামের গল্প। আজ তার নিজের জীবনই যেন সেই গল্পের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়।
সহকর্মী ও স্বজনরা জানান, দ্রুত প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করা গেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এ অবস্থায় সাংবাদিক সহকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তি এবং দেশ-বিদেশের মানবিক মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তারা।
হয়তো কারও সামান্য সহযোগিতা, কারও একটি মানবিক উদ্যোগ, কিংবা কয়েকজন মানুষের সম্মিলিত সহায়তাই বদলে দিতে পারে ইসাহাকের পরিবারের এই দুঃসময়।
যে মানুষটি এতদিন অন্যের কষ্টের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, আজ তার নিজের কষ্টের কথাটিও পৌঁছে যাক মানুষের হৃদয়ে—এই প্রত্যাশা পরিবার ও সহকর্মীদের।
ইসাহাকের হাতে আবার কলম ফিরুক। ছোট সন্তানদের মুখে আবার ফুটুক বাবাকে ফিরে পাওয়ার হাসি—এটাই এখন তার পরিবারের সবচেয়ে বড় প্রার্থনা।
