কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি;নাগেশ্বরী উপজেলার উন্নয়ন তহবিল বরাদ্দ প্রকল্পে বল্লভেরখাস ও নেওয়াশী ইউনিয়নে রাস্তা সিসি করণ ও গাইডওয়াল নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খাতা-কলমে শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে অধিকাংশ প্রকল্পের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভিডিও ফুটেজে প্রমাণিত রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ২০২৫-২০১৬ অর্থ বছরের ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিল এয় প্রাপ্ত বরাদ্দের অনুকূলে বল্লভেরখাস ও নেওয়াশী ইউনিয়নে প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র উঠে আসে। বল্লভেরখাস ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নুর জামাল উন্নয়ন তহবিলের বরাদ্দে তার নিজের যাতায়াতের সুবিধার্থে ও তার বাড়িগামী একটি রাস্তায় ৪টি প্রকল্প ‘বিশেষ বরাদ্দ’ ৩নং ওয়ার্ডের কবিরাজ পাড়া গ্রামের নাসিরের বাড়ির উত্তরের রাস্তায় পশ্চিমে গাইডওয়াল ও মাটি ভরাট করণ বরাদ্দ ৫লাখ এবং এই প্রকল্প সংলগ্ন ৩নং ওয়ার্ডের সরকারটারী গ্রামের আমিনের বাড়ির উত্তরে রাস্তার পশ্চিমে গাইডওয়াল ও মাটি ভরাট করণ বরাদ্দ ৫লাখ টাকার কাজে থার্ড ক্লাস ও সেকেন্ড ক্লাস ইট দিয়ে নামমাত্র গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে কিন্তু মাটি ভরাট করা হয়নি। সরকারটারি গ্রামের সিসি রাস্তার মাথা হতে দক্ষিনের আমিনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসি করণ বরাদ্দ ৪লাখ ২৭হাজার ৮শত টাকা এবং ৩নং ওয়ার্ডের কবিরাজ পাড়া গ্রামের সিসির মাথা হতে মইনুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসি করন বরাদ্দ ৩লাখ ৫০হাজার ৮শত টাকার কাজে চরম কারচুপি করা হয়েছে। এছাড়া নির্মাণ কাজে অত্যন্ত নিম্নমানের রাবিস খোয়া, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী দাবি করেন এবং ভিডিও চিত্র সংরক্ষিত।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বল্লভেরখাস ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নুর জামাল দায়িত্ব পর থেকে প্রভাব খাটিয়ে গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিভিন্ন উন্নয়ন তহবিলের বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন। জনগণের স্বার্থে নয় চেয়ারম্যান তার চলাচলের জন্য তার বাড়িগামী রাস্তায় উন্নয়ন তহবিলের ৪টি প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে ফায়দা লুটিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেন। অন্যদিকে বল্লভেরখাস ইউনিয়নের একাধিক প্রকল্পে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বরাদ্দকৃত অর্থের অর্ধেকেরও কম খরচে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নামকাওয়াস্তে কাজ শেষ করার অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসী।
নেওয়াশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান মুকুল অতি-কৌশলে উন্নয়ন তহবিলের বিশেষ বরাদ্দ প্রকল্পে ৫নং ওয়ার্ডের চাকেরকুটি নতুনবাজারের সিসি রাস্তা হতে পশ্চিম দিকে আবু তালেবের দোকান ঘর পর্যন্ত রাস্তা আরসিসি করণ বরাদ্দ ৬লাখ কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করে নির্মাণ করেন বলে এলাকাবাসী দাবি করেন। উন্নয়ন তহবিল (২য় কিস্তির) প্রকল্পের ৪নং ওয়ার্ডের সুখাতী বোর্ডঘর মসজিদ হতে মালেকের দোকান পর্যন্ত রাস্তা আরসিসি করণ বরাদ্দ ২লাখ ২৫হাজার ৬শত এবং ৮নং ওয়ার্ডের দুলাল বিএসসির বাড়ি হতে নরেনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা আরসিসি করণ বরাদ্দ ২লাখ ২২হাজার টাকার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের ইটের রাবিস খোয়া, বালু ও সিমেন্টের ভাগ কম দিয়ে ব্যাপক অনিয়মের মাঝে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। খাতা-কলমে শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে অধিকাংশ প্রকল্পের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও অনুসন্ধানে জানা গেছে।
নেওয়াশী ইউনিয়নের অনেক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এলাকার রাস্তার জন্য বরাদ্দ এসেছিল শুনি, কিন্তু রাস্তার কাজ করেন যেমনি তেমনে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা প্রভাবশালী মহল ও সংশ্লিষ্ট অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আমরা এই দুর্নীতিবাজদের শাস্তি চাই।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এসব প্রকল্পে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, সঠিক তদন্ত করা হলে এই চক্রের পেছনে থাকা মূল হোতাদের মুখোশ খুলে যাবে এবং থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।
নেওয়াশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজার আবার মুকুল বলেন, বিশেষ বরাদ্দের কাজ। এই প্রকল্প অর্থ দিয়ে কিনে নিতে হয়েছে। সামান্য ত্রুটি থাকতেই পারে।
বল্লভেরখাষ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নুর জামাল বলেন, বিল উত্তোলন করে আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবো।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, আপনারা বস্তু নিষ্ঠুর সংবাদ প্রকাশ করেন। তদন্ত করে প্রকল্পে অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
