সবুজ হোসেন, প্রতিনিধি:নওগাঁয় বাংলাদেশ ভূমি প্রশাসন সমিতি জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত বার্ষিক সাধারণ সভা ও মিলনমেলা অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে নাচ-গানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি নওগাঁ শহরের একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ভূমি প্রশাসন সমিতি নওগাঁ জেলা শাখার সদস্যদের অংশগ্রহণে বার্ষিক সাধারণ সভা ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক আয়োজনের অংশ হিসেবে নাচ ও গানের পরিবেশনা করা হয়। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন অংশগ্রহণকারী ও দর্শক নিজেদের মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন।
পরে সেই ভিডিওগুলোর কিছু অংশ ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওগুলোতে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের গান ও নাচে অংশ নিতে দেখা যায়। ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া।
নেটিজেনদের একাংশের দাবি, ভূমি প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এমন কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে। তাদের মতে, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও তা আরও সংযত ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে অনেকেই বিষয়টিকে স্বাভাবিক সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে দেখছেন। তাদের বক্তব্য, বার্ষিক মিলনমেলা বা পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে গান, নাচ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নতুন কিছু নয়। কর্মব্যস্ততার বাইরে সহকর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য এমন আয়োজন বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত হয়ে থাকে। তাই বিষয়টি নিয়ে অতিরঞ্জিত সমালোচনা না করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে অসংখ্য মন্তব্য ও মতামত প্রকাশ করা হচ্ছে। কেউ এটিকে ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধির সঙ্গে বিষয়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা সে প্রশ্ন তুলেছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ভূমি প্রশাসন সমিতি নওগাঁ জেলা শাখার কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ভিডিওটি কোন প্রেক্ষাপটে ধারণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংগঠনের অবস্থান কী তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তবে ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং বিষয়টি স্থানীয় মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
