ঢাকাFriday , 18 September 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. খেলাধুল
  4. জাতীয়
  5. বিনোদন
  6. বিশ্ব
  7. রাজনীতি
  8. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাউফলে চাঁদা দাবি করে দোকানে তালা, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

Mahamudul Hasan Babu
September 18, 2026 1:34 pm
Link Copied!

আবু রায়হান,বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:পটুয়াখালীর বাউফলে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এক ব্যবসায়ীর দোকানে তালা দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সৈয়দ মো. সোহাগ নামে এক যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. নাইম হোসেন (৩০) উপজেলার পূর্ব কালাইয়া গ্রামের মো. বাবলু চৌকিদারের ছেলে। শৌলা তারের পোল বাজারে তাঁর কীটনাশকের দোকান ও ট্রলি গাড়ির ব্যবসা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি মৌসুমে তরমুজ চাষ ও পরিবহনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাউফল থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত তরমুজ মৌসুমের পর থেকে নাইমের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করে আসছেন সোহাগ। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় প্রায় ২০ দিন আগে সোহাগ দলবল নিয়ে নাইমের কীটনাশকের দোকানে তালা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় নাইম তালা ভেঙে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি চালু করেন।

এরপর বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সোহাগ কয়েক দফায় নাইম ও তাঁর বাবার কাছে টাকা দাবি এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নাইমের কাছে টাকা দাবি করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ব্যবসায়ী নাইম হোসেন বলেন, কীটনাশক ব্যবসার পাশাপাশি ট্রলি গাড়ি দিয়ে হালচাষ ও তরমুজের মৌসুমে তরমুজ পরিবহন করেছি। তখন থেকেই সোহাগ তরমুজপ্রতি এক টাকা করে দাবি করে আসছেন। টাকা না দেওয়ায় প্রায় ২০ দিন আগে প্রকাশ্যে আমার দোকানে তালা লাগিয়ে দেন। এরপরও টাকা না দেওয়ায় গত মঙ্গলবার আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

নাইমের বাবা মো. বাবুল চৌকিদার বলেন, কয়েকদিন আগে সোহাগ তাঁকে তারের পোল বাজারের এক তেল ব্যবসায়ীর দোকানে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর ছেলের কাছে টাকা পাওয়ার কথা জানান সোহাগ। কীসের টাকা জানতে চাইলে ট্রলি গাড়ি চালানো, তরমুজ পরিবহন ও বাজারে ব্যবসার কারণে টাকা দিতে হবে বলে জানান। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে চলে আসেন। পরে তাঁকে ফোন করেও টাকা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে যুবদল কর্মী সৈয়দ মো. সোহাগ বলেন, গত বছর তরমুজের মৌসুমে আমার এক ভায়রার ৩৫ একর জমির তরমুজ নাইমের গাড়ি দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে। কথা ছিল প্রতি পিস তরমুজে আমাকে এক টাকা করে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই টাকা দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে আমার বিরোধ চলছে।

তবে নাইমের দোকানে তালা দেওয়া ও তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন সোহাগ।

অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত কর্মকর্তা বাউফল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ব্যস্ততার কারণে ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।