নিজস্ব প্রতিবেদক:সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার চেলা ও মরা চেলা নদী সংলগ্ন সোনাপুর ও উত্তর পার এলাকায় তীব্র গণ-অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিগত সরকারের আমলে রাতারাতি শতকোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া বিতর্কিত স্থানীয় নেতা হাজী স্বপন মিয়ার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁসের পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উক্ত অডিওতে তাকে স্থানীয় সোনাপুর গ্রামের আন্দোলনকারী সাধারণ মানুষ এবং তাদের মা-বোনদের নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিতে শোনা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাত্র এক যুগ (১২ বছর) আগেও স্বপন মিয়া পেশায় একজন সাধারণ রাজমিস্ত্রি ছিলেন। কিন্তু বিগত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক পদ পদবি ব্যবহার করে নিজের প্রভাব বাড়াতে শুরু করেন। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতার সাথে ছবি ও সেলফি তুলে তিনি এলাকায় নিজের একচ্ছত্র দাপট তৈরি করেন। এই প্রভাব খাটিয়ে তিনি মেগা প্রকল্পের বিভিন্ন ব্লকের কাজসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঠিকাদারি কাজ হাতিয়ে নেন এবং শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, চেলা নদী মহালের উত্তর পাড়ে সোনাপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। কিন্তু হাজী স্বপন মিয়া ক্ষমতার জোর খাটিয়ে উক্ত এলাকার সরকারি খাস জমির প্রায় ২০ থেকে ৩০ বিঘা জমি জোরপূর্বক জবরদখল করে নেন। নিজের অবৈধ কালো টাকা আড়াল করতে তিনি স্ত্রী, সন্তান ও মায়ের নামে বিলাসবহুল প্রাসাদ ও শত শত বিঘা বেনামী সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন।
সোনাপুরবাসীর অভিযোগ করে জানান, কিছুদিন আগে লোকদেখানোভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও, নেপথ্যে বিপুল কালো টাকার বিনিময়ে মূল চক্রের সাথে হাত মেলান স্বপন। দিনের বেলা আইনি ঝামেলা এড়াতে তিনি রাতের আঁধারে নিষিদ্ধ ও পরিবেশ ধ্বংসকারী ‘বোমা মেশিন’ ও ড্রেজার দিয়ে মরা চেলা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন শুরু করেন। এতে নদীভাঙন ও ফসলি জমি বিলীনের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ বাধা প্রদান করলে, ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ স্বপন মিয়া সোনাপুরবাসীর মা-বোনদের জড়িয়ে অত্যন্ত নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করেন, যা বর্তমানে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল।
চেলা ও মরা চেলা নদীর পরিবেশ রক্ষা, দরিদ্র কৃষকদের ফসলি জমি উদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের সম্মানহানির বিচারে এই চিহ্নিত বালুখেকো ও জবরদখলকারী স্বপন মিয়ার বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসন এবং যৌথ বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দোয়ারাবাজারের সর্বস্তরের সচেতন জনতা।
দোয়ারাবাজার থানার ইনচার্জ অফিসার তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানিয়েছেন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখতেছি। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্হা নেওয়া হবে।
