পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইউরিয়া সার ডিলারদের কারসাজীতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা। চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরেও অনেক কৃষককে শেষ পর্যন্ত ডিলার পয়েন্টে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় সার বিক্রির দোকানগুলোতে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে কৃষকেরা ডিলারদের দোকানে
ভিড় করছেন। সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অনেক কৃষককে এক
বস্তা করে সার দেওয়া হচ্ছে।
পীরগঞ্জের ৭ নম্বর বড় আলমপুর ইউনিয়নের ডিলার মেসার্স তৃপ্তি ট্রেডার্সে সরেজমিনে গিয়ে সার নেওয়ার জন্য কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। লাইনে দাঁড়িয়ে কৃষকদের এক বস্তা করে সার দেওয়া হচ্ছে।
ফকিরা এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, বড়আলমুর ইউনিয়নের সারের ডিলার তোজাম্মেল হক দুলুর ব্যবহার খুউব খারাপ, সার নিতে আসা প্রত্যেক কৃষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমাকে গত বৃহস্পতিবার কৃষি অফিসের লোকের সামনে ডিলার পয়েন্ট থেকে ধাক্কা দিয়ে সার না দিয়ে বের করে দেন।
একই ইউনিয়নের পত্নীচড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম বলেন, সকাল থেকে বসে আছি। এখন পর্যন্ত চার ঘণ্টা হয়ে গেছে, তবুও সার পাইনি। আল্লাহই জানেন কখন পাব।
কৃষক রবিউল প্রধান বলেন, আমার জমিতে চার বস্তা সারের প্রয়োজন, কিন্তু পেয়েছি এক বস্তা। এভাবে হলে আমাদের ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মেসার্স তৃপ্তি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তোজাম্মেল হক দুলু তাঁর ভাতিজা মানিকের দোকানে সার সরবরাহ করে সেখান থেকে বেশি দামে বিক্রি করছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তোজাম্মেল হক দুলু।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ বলেন, বড়আলমপুর ইউনিয়নের সারে ডিলার তোজাম্মেল হক দুলুর ব্যপারে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। পাশপাশি তিনি আরো বলেন, উপজেলায় বর্তমানে ৪৯০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে। চলতি মাসে আরও ৩৫৩ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ রয়েছে, যা উত্তোলন করা হচ্ছে। সার নিয়ে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট যাতে তৈরি হতে না পারে, সে বিষয়েও আমরা কাজ করছি। আশা করছি, পীরগঞ্জ উপজেলায় সার নিয়ে বড় ধরনের কোনো সংকট তৈরি হবে না।
