রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর রমিজ ইউনিয়নের উত্তর-পূর্ব চরআফজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ফারজানা বেগমের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীর মাকে স্কুলের ভেতরে অপমান ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী নাজমা বেগমের দাবি, তার ছেলে পরীক্ষার ফি বাবদ ৫০ টাকা দিতে না পারায় তাকে পরীক্ষা থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি জানতে নাজমা বেগম ছেলেকে নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষিকাকে বিষয়টি জানান এবং আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে আপাতত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন।
নাজমা বেগমের অভিযোগ, এ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ফারজানা বেগম তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং বিদ্যালয়ের এক কর্মচারীকে তাকে একটি কক্ষে ঢুকিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি পুলিশে দেওয়ার কথা বলেন।
শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তারা দরিদ্র হওয়ায় দিনমজুরি ও নদীতে মাছ ধরাসহ বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। হাতে টাকা এলে বিদ্যালয়ের বেতন ও পরীক্ষার ফি পরিশোধ করবেন। কিন্তু পরীক্ষার ফি দিতে না পারায় শিশুটিকে পরীক্ষা থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ফারজানা বেগম। তিনি বলেন, ওই নারী বিদ্যালয়ে এসে চেঁচামেচি ও গালমন্দ করছিলেন। এ কারণে তিনি একজন কর্মচারীকে ওই নারীকে কক্ষে নিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখতে বলেছিলেন। তবে তার দাবি, তিনি কোনো অভিভাবকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেননি। তিনি বলেন, সন্তান না থাকলেও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো করে মানুষ করতে চান।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মাইনুদ্দিন বলেন, অভিযোগকারী নারী এলাকার অনেককেই মানেন না। তবে প্রধান শিক্ষিকা যদি তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে বিষয়টি নিয়ে বিচার করা হবে। তাকে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি জানানোর জন্য বলা হলেও তিনি আসেননি বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইউসুফ বলেন, তার কাছে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে যেন কোনো ধরনের অপমানজনক আচরণ না করা হয় এবং ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
