পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রামের সাধারণ মানুষকে একের পর এক মামলায় জড়িয়ে হয়রানি ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। ওই ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জয়নাল আবেদীন নামে এক ব্যক্তি এসিড জাতীয় পদার্থ নিক্ষেপের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী এবং গ্রামবাসী।
জয়নাল আবেদীন চতরা ইউনিয়নের বড় বদনাপাড়া গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌছি। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, কাটাদুয়ার গ্রামের মমতাজ আলী মন্ডের ছেলে শরীফ সুমন দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা করে তাদের হয়রানি ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে আসছেন।
সম্প্রতি শরীফ সুমন এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রেকর্ডভুক্ত সরকারি রাস্তা বন্ধ করে দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে এলাকার দুই শতাধিক মানুষ পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় জয়নাল আবেদীনের ওপর তিনি ক্ষিপ্ত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গত ২২ আগস্ট চতরা ফাইভ স্টার হোটেলের সামনে জয়নাল আবেদীনকে একা পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন শরীফ সুমন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পর জয়নাল প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে সুযোগ বুঝে পেছন থেকে তার শরীরে তরল জাতীয় পদার্থ নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এতে জয়নাল আবেদীন চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, চিকিৎসকরা জয়নালের শরীরে এসিড জাতীয় পদার্থ নিক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে, শরীফ সুমনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে এলাকার লোকজনের নামে একাধিক মামলা করার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে জিআর মামলা নং ০১/২০২৬, সিআর মামলা নং ১২৪/২০২৩, সিআর মামলা নং ১৩৮/২০২৩, জিআর মামলা নং ১২৪/২০২০, প্রসিকিউশন মামলা নং ৯৪/২০২০ এবং এনজিআর মামলা নং ৪৬/২০২৬সহ প্রায় আটটি মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলায় এলাকার বিভিন্ন গ্রামের একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, “আমার অভিযোগ নেওয়ার পর পুলিশ তদন্ত করতে এসেছিল। এরপর থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। আমার স্বামী বর্তমানে চিকিৎসা অবস্থায় রয়েছে।”
তবে শরীফ সুমন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা।”
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজমুল হক বলেন, “অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
