আমিরুল ইসলাম অল্ডাম মেহেরপুর প্রতিনিধি: সরকারি অফিস মানে জনসেবার জায়গা। কিন্তু মেহেরপুরে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অফিসের ভেতরেই চলছে রমরমা ব্যবসা।
মেহেরপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক (স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর) এর কার্যালয়ের নিচতলার ফাঁকা জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে তুবা নার্সারি এন্ড হর্টিকালচার সেন্টার।
কার্যালয়ের নিচতলায় দাঁড়ালে যে কেউ মনে করবে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য হয়তো বিভিন্ন গাছপালা দিয়ে ফাঁকা স্থান সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায় ঘটনা পুরোটাই ভিন্ন। অফিসের নিচের খোলা জায়গা জুড়ে সারি সারি করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা, যা বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। ফলে অফিসের মূল ফটক বছরজুড়ে বন্ধই রয়ে যায়। অফিসে প্রবেশের জন্য রয়েছে ছোট্ট একটি পকেট গেট। জরুরি প্রয়োজনে কোনো গাড়ি অফিসের ভেতরে ঢোকানো প্রায় অসম্ভব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, অফিসের জায়গা নার্সারিকে দিয়ে দেওয়ায় আমরা নিজেরাই হতবাক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে কথা বলতে অফিসে উপস্থিত এক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন,বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের জায়গা এভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দ্রুত এই অবৈধ নার্সারি উচ্ছেদ করে সরকারি অফিসের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।
এদিকে এই অবৈধ নার্সারির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশের জেরে তুবা নার্সারির স্বত্বাধিকারী মিরাজুল ০১৭২১৫৬১৮২০ নম্বর থেকে নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। তারা অবিলম্বে সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা এবং হুমকিদাতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
