রোকনুজ্জামান সবুজ,জামালপুরঃ মাঠে আমন আবাদের ভরা মৌসুমে সারের জন্য জামালপুরের ইসলামপুরের কৃষকদের যখন নভিশ্বাস উঠছে, ঠিক তখনই সারের একটি বড় চালান পাচারের সময় হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় নতুন করে কাঠগড়ায় উঠেছে উপজেলার সার বিতরণ ও তদারকি ব্যবস্থাপনা।
মঙ্গলবার (২২সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার মহলগিরী বাজার এলাকায় পাচারের সময় একটি সারবোঝাই অটোরিকশা আটক করে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ এসে সারবোঝাই অটোরিকশাটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ,সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজনীয় সার পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তারা চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না। এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একটি অসাধু সিন্ডিকেট চড়া দামে কালোবাজারে সার পাচার করছে। রোপণ করা আমন ক্ষেতে সময়মতো সার দিতে না পারলে ফসল উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা।
সার সংকটের উত্তেজনার মধ্যেই পাচারের সময় হাতেনাতে সার আটকের ঘটনায় পুরো উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে-কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সার কীভাবে মূল বিপণন ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে? এই কালোবাজারি চক্রের পেছনে কারা জড়িত এবং স্থানীয় কৃষি বিভাগের তদারকিতে কোথায় গলদ রয়েছে?
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অদ্ভুত ভূমিকা পালন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। পাচারকারী চক্রের পরিচয় কিংবা কীভাবে সরকারি সার খোলা বাজারে পাচার হচ্ছিল-সে বিষয়ে কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি কেবল জানান,জব্দ করা সার কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হবে।
পরবর্তীতে ইসলামপুর থানা থেকে ঠিক কী শর্তে জব্দকৃত সার ছেড়ে দেওয়া হলো-এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন উক্ত কৃষি কর্মকর্তা। একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “সার কার জিম্মায় দেওয়া হবে বা হবে না-সে তথ্য কাউকেই দেওয়া সম্ভব নয়।” তিনি কোনো ধরণের তথ্য দিতেই সরাসরি অস্বীকৃতি জানান।
দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার এমন রহস্যজনক আচরণ ও তথ্য গোপনের চেষ্টায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন-প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও বিচার না করে কেবল সারটুকু বিক্রি করে দিলেই কি এই বড় ধরনের অপরাধের সমাধান হয়ে গেল? নাকি এর পেছনে কৃষি বিভাগেরই কারও ছত্রছায়ায় থাকা সিন্ডিকেটের হাত রয়েছে?
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, জব্দ করা সার অতিদ্রুত প্রকৃত কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বণ্টন করতে হবে। একই সাথে সার পাচারকারী এই সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সার বিতরণ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
