আবু সালমান রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মূল্যবান সরকারি জমি দখল করে প্রায় ২০টি পাকা দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। লক্ষ্মীপুর-রামগতি আঞ্চলিক সড়কসংলগ্ন জিয়ার খালের পাড়ে প্রকাশ্যে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তোরাবগঞ্জ বাজারের উত্তর পাশে জিয়ার খালের পাড় ও প্রধান সড়কসংলগ্ন সরকারি খালি জায়গা টিনের বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে ইট-সিমেন্টের পাকা দেয়াল তুলে দোকানঘর নির্মাণ করছেন স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ী মো. বাহার, যিনি এলাকায় ‘কসাই বাহার’ নামে পরিচিত। গত এক সপ্তাহ ধরে নির্মাণকাজ চললেও ইতোমধ্যে অধিকাংশ কাজ শেষের পথে। সরকারি জমি দখলের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. বাহার গণমাধ্যমকে বলেন,সরকারি জায়গায় ঘর তুলতেছি, কী হয়েছে! এটা আমি আলাপ-আলোচনা করে একটা বুঝ করেই তুলছি। সরকার জানে আর আমরা জানি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করেই প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমিতে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। এ বিষয়ে তোরাবগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বাজার ব্যবসায়ী মোসলেহ উদ্দিন বলেন, “সরকারি জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ করা হলেও পাউবোর কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ নিশ্চুপ। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো চাঁদাবাজির অপপ্রচারের শিকার হতে হয়।লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভেয়ার (রাজস্ব) মো. কামরুল আলম মিঠু জানান, ওই আঞ্চলিক সড়কের পূর্ব পাশে অন্তত ১০০ মিটার জায়গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। তবে এসব দখল ঠেকাতে তাদের নিজস্ব সক্ষমতা নেই দাবি করে তিনি বলেন, দখল উচ্ছেদের জন্য পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান বলেন, “খবর নিয়ে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সরকারি সম্পত্তি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
