নিজস্ব প্রতিবেদক: সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী দোয়ারাবাজার উপজেলায় অবৈধভাবে উত্তোলিত ও মজুত করা পাথরের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।গুরুত্বের সাথে নিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হানের নেতৃত্বে উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এ জোরালো অভিযান চালানো হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের চাইরগাঁও গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সীমান্ত অতিক্রম করে ভারত থেকে অবৈধ উপায়ে পাথর এনে মজুত করছিল। দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হান। এ সময় চাইরগাঁও গ্রাম থেকে প্রায় ৪ হাজার ২৬১ ঘনফুট অবৈধ পাথর জব্দ করা হয়।
অভিযান শেষে সিনিয়র সহকারী সচিব ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হান বলেন, আমরা সংবাদটি পাওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে দোয়ারাবাজারের নরসিংপুর ইউনিয়নের চাইরগাঁও গ্রামে অভিযান চালাই এবং প্রায় ৪ হাজার ২৬১ ঘনফুট অবৈধ পাথর জব্দ করতে সক্ষম হই। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে কিংবা অনুমোদনহীন উপায়ে পাথর উত্তোলন করা পুরোপুরি বেআইনি। এভাবে যদি সীমান্ত এলাকায় অনুমোদন ছাড়া পাথর উত্তোলন বা চোরাচালান চলে, তবে তা দেশের নিরাপত্তার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরও বলেন, অবৈধ পাথর উত্তোলনের মতো অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িতরা পালিয়ে যায়, যার ফলে কাউকে আটক করা হয়নি। অপরাধ নির্মূলে ও সীমান্ত সুরক্ষা বজায় রাখতে আমাদের এই ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
এদিকে প্রশাসনের এমন ঝটিকা ও কঠোর অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ স্থানীয় বাসিন্দারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাইরগাঁও গ্রামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এমন অভিযান যদি কোনো প্রকার বিরতি ছাড়া নিয়মিত পরিচালনা করা হয়, তবে এলাকা থেকে অবৈধ পাথর কারবারি ও সীমান্ত অপরাধ একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এই ধরনের কঠোর নজরদারি যেন দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা হয়।
