রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুরঃ জামালপুরে ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নটি যমুনার বুকে জেগে উঠা দূর্গম চরাঞ্চল। ওই ইউনিয়নের মানুষগুলো যমুনা নদীর ভাঙা-গড়ার সাথে লড়াই করে বেঁচে রয়েছেন। এই দূর্গম চরাঞ্চলের অসহায় মানুষগুলোর সাথে মিলেমিশে থাকা জাতীয়তাবাদী আদ্বর্শে বিশ্বাসী অতি সাধারণ একজন ব্যাক্তির নাম সাংবাদিক আজিজুর রহমান চৌধুরী। ইসলামপুরে সাপধরী ইউনিয়নকে যমুনার পেট থেকে উদ্ধার করাই তার প্রধান স্বপ্ন। তিনি ইতোমধ্যেই বয়সের কোঠা ষাট পেরিয়েছেন। তার জীবনের সোনালী দিনগুলো তিনি বিএনপির রাজনীতি, সাংবাদিকতা ও সাপধরী ইউনিয়নবাসীর কল্যাণেই কাটিয়েছেন।
নব্বইয়ের স্বৈরাচার এরশাদ সরকার খেদানো ছাত্রদল নেতা ছিলেন আজিজুর রহমান চৌধুরী। তিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার আমলে অনাড়ম্বর কাউন্সিল অধিবশনের মাধ্যমে ইসলামপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন থেকে টানা সাত বছর দক্ষতার সাথে ছাত্র রাজনীতির পাঠ চুকিয়ে সরাসরি প্রবেশ করেছেন বিএনপির রাজনীতিতে। তিনি বিএনপি রাজনীতির শুরুতেই ইসলামপুরে সাপধরী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘদিন দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তখন সাপধরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন প্রয়াত খলিলুর রহমান মন্ডল। এরপর তিনি সাপধরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘদিন দক্ষতার সাথে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তখন সাপধরী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শহিদুর রহমান মন্ডল। তিনি এখনো ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসাবে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নানা প্রতিকুলতার মাঝেও তার নিজস্ব ভোটকেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবুকে বিজয়ী করতে সমর্থ হয়েছেন।
তিনি সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি বিএনপির রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তৎকালীন আওয়ামী দুঃসাশনের কবলে পড়ে নানা অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
সাংবাদিক আজিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমি নিজের সুখ-শান্তির কথা কখনোই ভাবিনি। আমার প্রতিটি সকাল-সন্ধ্যা কেটেছে সাপধরী ইউনিয়নবাসীর দুঃখ-কষ্ট লাঘবের চেষ্টায়। ইসলামপুরে সাপধরী ইউনিয়নকে যমুনার পেট থেকে উদ্ধার করাই আমার স্বপ্ন। মানুষ হিসেবে আমিও ভুলের ঊর্ধ্বে নই। আমার জীবনের নানা ব্যর্থতার গ্যারাকলে আমি সাপধরী ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনে দুর্ভাগ্যক্রমে তিনবার পরাজিত হয়েছি। এজন্য প্রতিদিনই আমার বুক ফেটে কান্না আসে ও চোখের জলে বুক ভিজে যায়। বিগত দিনে যারা আমার জন্য শ্রম, মেধা ও অর্থ দিয়ে সহযোগীতা করেছিলেন, তাদের মুখে আমি হাসি ফোটাতে পারিনি। আপনাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে না পেরে আজ নিজেকে বড্ড অপরাধী আর ঋণী মনে হয়।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আজও সাংবাদিক আজিজুর রহমান চৌধুরী আরো বলেছেন, সাপধরী ইউনিয়ন বাসীর কাছে দাবী রাখছি মাত্র একটিবার আমাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন। মৃত্যুর আগে আমি শুধু দেখে যেতে চাই যে, আমি সাপধরী ইউনিয়নের দূর্গম চরাঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের জন্য আমি কিছু করতে পেরেছি। যমুনার ভাঙন রোধ করা আর অবহেলিত চরের রাস্তাঘাট নির্মাণসহ আপনাদের সার্বিক কল্যাণে আমার মেধা,সততা ও অভিজ্ঞতাটুকু বিলিয়ে দিয়ে যেতে চাই। খোদা সহায়, আপনাদের মূল্যবান রায় আর দোয়ার হাতটি শেষবারের জন্য হলেও আমার মাথায় এলে যমুনার চরাঞ্চলে আমার জন্ম নেওয়াটা হয়তো সফল হতো। আপনাদের সকলের প্রতি রইলো আমার চিরকালের স্নেহ,শ্রদ্ধা,গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।
