মোঃ কামরুল ইসলাম টিটু বাগেরহাট শরনখোলা প্রতিনিধি: পূর্ব সুন্দরবনের কচিখালী অভয়ারণ্য এলাকায় বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে একদল হরিণ শিকারি খাবার ও বিপুল পরিমাণ ফাঁদ ফেলে গহীন বনে পালিয়ে গেছে। বুধবার দুপুরে শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত নিয়মিত টহলকালে এ ঘটনা ঘটে। বনরক্ষীরা ঘটনাস্থল থেকে শিকারিদের ফেলে যাওয়া প্রায় এক হাজার দুইশ ফুট হরিণ ধরার ‘মালা ফাঁদ’ ও বরফভর্তি ককসিটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করতে সক্ষম হন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কচিখালী অভয়ারণ্য কেন্দ্রের দরজার খাল ও বাহির সুখপাড়ার মধ্যবর্তী বনাঞ্চলে নিয়মিত হেঁটে টহল দেওয়ার সময় বনরক্ষীরা প্রথমে একটি মালা ফাঁদ দেখতে পান।
এতে সন্দেহ হলে বনরক্ষীদের দলটি পুরো বনাঞ্চলে সতর্কতার সাথে বিশেষ তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
তল্লাশির একপর্যায়ে বনের ভেতরে সুন্দরী গাছের আড়ালে চার থেকে পাঁচজনের একটি শিকারি দলকে রান্না করা ভাত খেতে দেখা যায়। এ সময় বনরক্ষীদের কাছাকাছি আসতে দেখে শিকারিরা নিজেদের খাবারের থালা, রসদ ও শিকারের সরঞ্জামাদি ফেলে দ্রুত বনের গভীরে পালিয়ে আত্মগোপন করে।
ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে বনরক্ষীরা প্রায় ১,২০০ ফুট মালা ফাঁদ, পাতিলে রান্না করা ভাত, ১০ কেজি চাল, ৫-৬ কেজি পলিথিন, একটি বরফভর্তি ককসিট, একটি দা, দুটি ধারালো চাকু এবং একটি হাতকরাত উদ্ধার করেন। কচিখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার দিলীপ মজুমদার জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জব্দকৃত মালা ফাঁদগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, বনরক্ষীদের সময়োপযোগী তৎপরতার কারণে শিকারিদের হরিণ নিধনের বড় একটি অপচেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে এবং বহু বন্যপ্রাণীর প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।
সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় পদব্রজে এই বিশেষ টহল ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
