মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী।গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সদস্য সচিব ও প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মরহুম এম. মনসুর আলীর আজ ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী। গোপালগঞ্জে বিএনপির দুঃসময়ের এই প্রবীণ নেতা শুধু একজন রাজনীতিবিদই ছিলেন না, তিনি ছিলেন দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে এক পরম অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক।
গোপালগঞ্জে যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতি বর্তমানের মতো বিস্তৃত ছিল না, তখন অত্যন্ত প্রতিকূল ও বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে তিনি জেলায় জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভিত শক্ত করেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা ও কর্মীদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা গোপালগঞ্জের রাজনীতিতে তাঁকে সর্বজনশ্রদ্ধেয় আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি গোপালগঞ্জ সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের সাবেক ভিপি, উলপুর ইউনিয়ন পরিষদের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য সচিব হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। দলের কঠিন ও দুঃসময়ে তাঁর ত্যাগ, সাহস ও দিকনির্দেশনা আজ গোপালগঞ্জের রাজনীতিতে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক অনুসারী রেখে গেছেন। তাঁর উত্তরসূরিদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ পুত্র মাহমুদ আলী কবির একজন সাংবাদিক, দ্বিতীয় পুত্র এম. মাহবুব আলী সোহেল গোপালগঞ্জ সদর পৌরসভার বারবার নির্বাচিত সাবেক কমিশনার এবং কনিষ্ঠ পুত্র মরহুম এম. মাসুদ আলী স্বপন ছিলেন উলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। তাঁর পরিবারের সদস্যরা আজও তাঁর সততা, রাজনৈতিক আদর্শ ও সামাজিক মূল্যবোধের স্মৃতি বহন করে চলছেন।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁর জীবনের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন—আমিন।
