রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুরঃ জামালপুরে মাদারগঞ্জে চাঞ্চল্যকর চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ৭ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৭ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
এছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের অর্থদণ্ড অনাদায়ে অতিরিক্ত ৩ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে তদন্ত ও ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের পর অবশেষে ঘোষণা করা হলো এই মামলার রায়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মাদারগঞ্জ উপজেলার গজরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে সাখাওয়াত (৩২) তাইজলের ছেলে সোহেল (৩০) আছর শেখের ছেলে আল আমিন (৩১) মৃত ভোলার ছেলে সাদ্দাম (৩১) কামালের ছেলে উজ্জ্বল (৩১) সোজা মিয়ার ছেলে অন্তর (৩১) ও শহিদুলের ছেলে ফয়জুর (৩৩)।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন,একই গ্রামের মৃত গিয়াসের ছেলে চান মিয়া (৫১) আছর শেখের ছেলে জিয়ার (৪৬) মৃত ভোলার ছেলে শাহ আলম (৪৬) রফিজলের ছেলে কাউসার (৩০) তারা মিয়ার ছেলে রিফাত (৩২) আব্বাস আলীর ছেলে সুমন (৩২) ও মৃত নাটু শেখের ছেলে মুস্তফা (৫০)।
বৃহস্পতিবার (২০আগস্ট) দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. দিদারুল ইসলাম দিদার বলেন, ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল মাদারগঞ্জের গজারিয়া গ্রামের শিক্ষার্থী মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়াকে কৌশলে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে আসামিরা। নিখোঁজের তিনদিন পর একটি পাটক্ষেত থেকে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের ঘটনায় নিহত স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে একই বছরের গত ১৯ মে মাদারগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ থেকে ঘটেছে এই হত্যাকাণ্ড। হত্যাকাণ্ডের শিকার মহর আলী ছিলেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আর দশম শ্রেণিতে পড়তেন স্বপন মিয়া।
দীর্ঘ প্রায় এক দশক তদন্ত,১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলাটির রায় হলো। রায়ে ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনরা। একই সঙ্গে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আসামি পক্ষ এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।
